আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে আরবি ভাষা বিভাগের ডঃ ফজলুর রহমান স্যারের ক্লাস অনেক পেয়েছি। বিভিন্ন পরীক্ষার আগে অনেক কান্নাকাটি করে ও স্যারের কাছ থেকে কোন সাজেশন কেউ পেত না। বিশেষত ডিপ্লোমা সময় যখন অনেক বেশি ছিল বাস ছিল আর আরবি ভাষায় বড় বড় প্যারাগ্রাফ, অনুবাদ (বাংলা থেকে আরবি, আরবী থেকে বাংলা, থেকে আরবি) এগুলো করতে হতো, অনেক বাঘা বাঘা পরীক্ষার্থীরাও (যারা মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড এর) বিপাকে পড়ে যেতেন, আর আমার মত জেনারেল লাইনে পরীক্ষার্থীদের কথা তো বাদই দিলাম। স্যার এর ভাষ্য এমন ছিল "এতগুলো প্যাসেজ থেকে মাত্র কটা প্যাসেজ করানো হয়েছে, যদি শিক্ষার্থীরা না পারে পরীক্ষার আগে কিভাবে চলবে? "
অনেক বেশি পীড়াপীড়িতে স্যার একটা কথা বলতেন আমি আল্লাহ ছাড়া কারো মুখাপেক্ষী নই। এমনিতে স্যার খুবই অমায়িক। যথাযথ সময়ে ক্লাস নিতেন, কোন ক্লাসই বাদ দিতেন না এবং ক্লাসের যত প্রশ্ন করা হতো ধৈর্য সহকারে তার উত্তর দিতেন। আলহামদুলিল্লাহ ভালো ছিল সেই দিনগুলো। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি প্রতি জন শিক্ষকের কাছ থেকে।
আসল কথায় আসি, কেন এই গল্পটা দিয়ে দেখা শুরু করলাম? "আমি আল্লাহ ছাড়া কারো মুখাপেক্ষী নই" কথাটা বলতে পারা কত বড় সাহস, দৃঢ়তা, অদম্যতা ও নৈতিকতার পরিচায়ক তা বলে বোঝানো সম্ভব না। একজন মানুষের মধ্যে নিজের প্রতি ও তার রবের প্রতি কী পরিমান আস্থা দৃঢ়তা থাকলে এমন কথা বলতে পারে তা আমি স্যারের কাছ থেকে শিখেছি।
দুনিয়াতে চলার পথে আমরা এর ওর কাছে মন খুলে নিজের কষ্টের কথা বলি,নিজের দুঃখের কথা বলি, নিজের শোচনীয় অবস্থা তুলে ধরি। তাদের সাহায্য কামনা করি, তাদের সহমর্মিতা কামনা করি। আশা করি, যেন তারা আমাদেরকে বোঝে। যেটা কোন দরকারই নেই যদি আমরা একটা লাইন জানি ও মানি ও বলতে পারি। তাহলে আমি "আল্লাহ ছাড়া আমি আর কারো মুখাপেক্ষী নই" ।
আমি বিশ্বাস করি একজন মানুষ নৈতিকতা বিবর্জিত কাজ না করলে , নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব টুকু সঠিকভাবে পালন করলে , আল্লাহর উপর আস্থা থাকলে তার কোন বিষয় নিয়ে কারোর মুখাপেক্ষী হবার কোন কারণ নেই। ঐ এক রব ছাড়া। মনের গোপন কুঠুরিতে যে চাহিদাগুলো মন নিজেও এখন পর্যন্ত জানে না, তা সেই পরম করুণাময় জানেন। তিনি যদি মনে করেন সেই চাহিদাগুলো ব্যক্তির জন্য ভবিষ্যতে কল্যাণ বয়ে আনবে, তাহলে তিনি সেই চাহিদা যেভাবেই হোক পূরণ করবেন।
No comments:
Post a Comment